ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যশোর রেলগেটে মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলীর নেতৃত্বে শত জনের রমরমা মাদক সিন্ডিকেট মাদকমুক্ত সমাজ, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিয়ে ৯ নং কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী সাব্বির আলম সবুজ নড়াইলের নড়াগাতীতেপুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ পালানো সেই আসামি গ্রেফতার সারাদেশে ধারাবাহিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের উদ্বেগ সারাদেশে শিশু ধারাবাহিক শিশু নির্যাতনের ঘটনায় সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের উদ্বেগ জবিতে জকসুর উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প আগামীকাল জবি আইনজীবী সমিতির নেতৃত্বে তরিকুল-পলাশ জবিতে র‍্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন ছাত্রদল নেতার ইবিস্থ আইইউসানস’র নবীনবরণ ও প্রবীণ বিদায় অনুষ্ঠিত ঈদে বিভাগীয় শহরে বাসের আবেদন জকসুর

ইউনিয়ন বিএনপির শোকসভায় যবিপ্রবি উপাচার্য ; সমালোচনার ঝড়

  • আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭৭৬ বার পড়া হয়েছে

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা সভায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উক্ত সভায় উপাচার্যের যোগ দেওয়াকে যবিপ্রবির সম্মানহানি ও রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনীতি প্রবেশের আশংঙ্কা করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব এক পোস্টে বলেন, “একজন উপাচার্য (ভিসি) একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রোগ্রামে যাচ্ছে, বক্তৃতা দিচ্ছে, আর আপনারা বলেন যবিপ্রবি রাজনীতি মুক্ত! প্লিজ “রাজনীতি মুক্ত যবিপ্রবি” এই স্ক্যাম আর ছড়াইয়েন না। ভিসির সাম্প্রতিক কর্মকান্ড প্রমাণ করে ক্যাম্পাসে “জাতীয়তাবাদী” গোষ্ঠীর পেছনে ভিসিই আছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো ছাত্রলীগের মতো আরেকটা আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীকে দেখতে পাবো। শেইম অন ভিসি, না রাখলেন জুলাইয়ের আকাঙ্খা! না রাখলেন যবিপ্রবির মানসম্মান!”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাফি লিখেন, “রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া প্রশাসনের ভিসিই যখন নির্বাচনী প্রচারণায় যায়। ভিসি স্যারের মেধা চমৎকার সবাই বলে। আর এখন দেখি মেরুদণ্ডের অবস্থা কত দূর্বল।”
এছাড়া শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে যেরকম স্থানীয় রাজনীতির আশ্রয়ে ক্যাম্পাসে আওয়ামী-ছাত্রলীগ টেন্ডার, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের শহরে ও হলের রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করত, বিএনপির দলীয় প্রোগ্রামে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসের উপাচার্যের রাজনৈতিক শোকসভায় যোগদান যবিপ্রবিকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সময় থাকতে সকল শিক্ষার্থীদের উচিত প্রশাসনের রাজনৈতিক গোলামির লাগাম টেনে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। আমাদের ক্যাম্পাসকে কোন রাজনৈতিক দলের কাছে ইজারা দিতে চাই না। আমাদের ক্যাম্পাস শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য হবে রোল মডেল।
এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, শোক সভাটি বিএনপির দলীয় প্রোগ্রাম ছিল না, এটি এলাকাবাসীর প্রোগ্রাম ছিল। খালেদ জিয়া এখন দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের। উনার স্মরণে এ প্রোগ্রামটি হয়েছে। এটি কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামও ছিল না। এখানে অংশগ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপমানের কিছুই নেই, এলাকারবাসীর সাথে সুসম্পর্ক রাখতেই এমন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা।
উল্লেখ্য, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও প্রধান বক্তা ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ।

ট্যাগস :

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

যশোর রেলগেটে মাদক সম্রাজ্ঞী লাইলীর নেতৃত্বে শত জনের রমরমা মাদক সিন্ডিকেট

ইউনিয়ন বিএনপির শোকসভায় যবিপ্রবি উপাচার্য ; সমালোচনার ঝড়

আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

যবিপ্রবি প্রতিনিধি
যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপি কর্তৃক আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা সভায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কড়া সমালোচনা করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। উক্ত সভায় উপাচার্যের যোগ দেওয়াকে যবিপ্রবির সম্মানহানি ও রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনীতি প্রবেশের আশংঙ্কা করছেন তারা।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে যবিপ্রবির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব এক পোস্টে বলেন, “একজন উপাচার্য (ভিসি) একটি রাজনৈতিক দলের দলীয় প্রোগ্রামে যাচ্ছে, বক্তৃতা দিচ্ছে, আর আপনারা বলেন যবিপ্রবি রাজনীতি মুক্ত! প্লিজ “রাজনীতি মুক্ত যবিপ্রবি” এই স্ক্যাম আর ছড়াইয়েন না। ভিসির সাম্প্রতিক কর্মকান্ড প্রমাণ করে ক্যাম্পাসে “জাতীয়তাবাদী” গোষ্ঠীর পেছনে ভিসিই আছে। অদূর ভবিষ্যতে আমরা হয়তো ছাত্রলীগের মতো আরেকটা আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীকে দেখতে পাবো। শেইম অন ভিসি, না রাখলেন জুলাইয়ের আকাঙ্খা! না রাখলেন যবিপ্রবির মানসম্মান!”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএমই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাফি লিখেন, “রাজনীতি নিষিদ্ধ চাওয়া প্রশাসনের ভিসিই যখন নির্বাচনী প্রচারণায় যায়। ভিসি স্যারের মেধা চমৎকার সবাই বলে। আর এখন দেখি মেরুদণ্ডের অবস্থা কত দূর্বল।”
এছাড়া শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ আমলে যেরকম স্থানীয় রাজনীতির আশ্রয়ে ক্যাম্পাসে আওয়ামী-ছাত্রলীগ টেন্ডার, নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষার্থীদের শহরে ও হলের রুমে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করত, বিএনপির দলীয় প্রোগ্রামে রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসের উপাচার্যের রাজনৈতিক শোকসভায় যোগদান যবিপ্রবিকে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সময় থাকতে সকল শিক্ষার্থীদের উচিত প্রশাসনের রাজনৈতিক গোলামির লাগাম টেনে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করা। আমাদের ক্যাম্পাসকে কোন রাজনৈতিক দলের কাছে ইজারা দিতে চাই না। আমাদের ক্যাম্পাস শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য হবে রোল মডেল।
এ বিষয়ে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ বলেন, শোক সভাটি বিএনপির দলীয় প্রোগ্রাম ছিল না, এটি এলাকাবাসীর প্রোগ্রাম ছিল। খালেদ জিয়া এখন দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষের। উনার স্মরণে এ প্রোগ্রামটি হয়েছে। এটি কোন রাজনৈতিক প্রোগ্রামও ছিল না। এখানে অংশগ্রহণ করা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অপমানের কিছুই নেই, এলাকারবাসীর সাথে সুসম্পর্ক রাখতেই এমন প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করা।
উল্লেখ্য, রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে যশোর সদরের চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ও প্রধান বক্তা ছিলেন যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ।